আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র এবং কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় কোনো উল্লেখযোগ্য হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, একটি ড্রোন দূতাবাসের ওপর আঘাত করেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হামলার সময় বাগদাদে ইরান সমর্থিত দুই যোদ্ধার বিমান হামলায় নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসে হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংলাপের ব্যর্থতা উল্লেখযোগ্য। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা ২১ দিনের সংলাপ কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। সংলাপ শেষ হওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান চালায়, যা সমান্তরালে ইসরাইলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর ইরান প্রতিবাদস্বরূপ উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান। সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কৌশলগত চাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ইরান-যুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ পর্যন্ত হামলায় কোনো প্রকার সামরিক বা নাগরিক ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাস এবং স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই হামলার প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া মনিটর করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।