অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদরা। শনিবার (১৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বীপটির ক্ষুদ্র আয়তন বিবেচনায় সামরিক হামলা তেলের রপ্তানি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও প্রভাষক এড হির্স আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, “ট্রাম্প বলেছেন তেল অবকাঠামো এড়িয়ে হামলা করা হয়েছে। কিন্তু খার্গ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে যদি সামরিক স্থাপনা কম থাকে, তেল রপ্তানি ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি না হয়েছে—এটি কল্পনা করা কঠিন।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন, যদি হামলা দীর্ঘমেয়াদে ইরানের তেল রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একই সময় ইরাক ও কুয়েতের উৎপাদন বা রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
হির্সের মতে, তেলের মূল্য বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। কারণ এই দেশগুলো অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির প্রধান আমদানিকারক।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সাম্প্রতিক ধারা শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশিত এক লাইভ আপডেটে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭২.৪৮ ডলার থেকে বেড়ে ১০৩.১৪ ডলারে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ৪৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮.৭১ ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা পরিচালনা করেছে এবং ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্য ধ্বংস হয়েছে। আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।”
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ দেশটির অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। দ্বীপটির আয়তন ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্বীপটি থেকে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, খার্গ দ্বীপের ওপর হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকা কঠিন হবে। দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, তেলের সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি-নির্ভর শিল্পখাতগুলোর ক্ষেত্রে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হয়, তবে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো বাধা দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা বাড়াবে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণায় স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সরাসরি তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার সিদ্ধান্ত নেনি, যা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা প্রদান করছে।