আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলাগুলোর মধ্যে একটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে তিনি সতর্ক করে জানান, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে সেই অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান অবলম্বন করেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চলমান থাকায় খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে। জেপি মরগানের সাম্প্রতিক নোট অনুযায়ী, দ্বীপের এই তেল অবকাঠামো জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্বীপে সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
খার্গ দ্বীপে তেল অবকাঠামোর বড় ধরনের উন্নয়ন হয় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে। তখন ইরানের উপকূলের অনেক অংশ সুপারট্যাঙ্কারের জন্য যথেষ্ট গভীর ছিল না, ফলে খার্গ দ্বীপ তেল রপ্তানিতে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এই দ্বীপ দেশের তেল রপ্তানির নেটওয়ার্কে একটি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনোরূপ বাধা ইরানি তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, খার্গ দ্বীপে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক এবং তা দ্রুত অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
অপরদিকে, ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দেশের কৌশলগত তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, খার্গ দ্বীপে সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর যে কোনো প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক পরামর্শদাতারা বিশ্বব্যাপী বাজার, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধানগুলোকে গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আগামী কয়েক সপ্তাহে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হবে।