অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল বিক্রয়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ অনলাইনে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলের অনুমতি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। এই লাইসেন্সটি ১২ মার্চ পর্যন্ত জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
গত ১১ মার্চের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ফলে মার্কিন ও বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তেলের মূল্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
২০১৪ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্রিমিয়া সংযুক্তির পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের আমদানি এবং বিক্রয়ের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করা হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক স্থগিতাদেশের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে এটি রাশিয়ার তেলের সরবরাহ চেইনে সঙ্কট কমাতে এবং বিশ্বের শক্তির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, এই লাইসেন্স ইস্যু করায় তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে জাহাজ চালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তাবলী মানতে হবে। শর্তাবলী পূরণ না হলে লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে সম্প্রতি কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘর্ষের কারণে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহে অসুবিধা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশেষভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার তেল আমদানির একটি সীমিত অবকাঠামোগত পথ পুনরায় চালু হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক লাইসেন্স মার্কিন প্রশাসনের বাজার সংক্রান্ত কৌশল এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমন্বয়সূচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে এটি শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা এবং মার্কিন সরকার ভবিষ্যতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পুনরায় নীতি পরিবর্তন করতে পারে।
সর্বশেষ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক তেল বাজার এবং রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।