রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াত ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করেনি, ফলে পদটি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের হাতে গিয়েছে। পূর্বে সরকারি পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে পদটি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) স্পিকার নির্বাচিত হন। একই অধিবেশনে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। সংসদ সূত্র জানায়, বিরোধী পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য কোনো প্রার্থী প্রস্তাব না করার কারণে সরকার দলীয় সদস্যের মধ্য থেকেই পদটি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামী ডেপুটি স্পিকার পদটি গ্রহণ করবে না জানিয়েছিল। বুধবার দলের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই সনদে বলা হয়েছে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটি চাই না, আমরা চাই প্যাকেজ এবং পিস মিল; সবকিছু বাস্তবায়ন হওয়ার ভিত্তিতে আমরা আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।” এই অবস্থান অনুসারে জামায়াত পদটি নেয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকায় সংসদে সরকার দলীয় একক প্রভাব আরও দৃঢ় হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সংসদের কার্যক্রমে বিরোধী দলের সীমিত উপস্থিতি এবং সাংবিধানিক ন্যায্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
সাংসদ কক্ষে প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর সংসদ অধিবেশন প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন সংসদ সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া, প্রথম অধিবেশনে অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়াদি ও কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
জামায়াতের ডেপুটি স্পিকার পদ না নেওয়া সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলের প্রভাব সীমিত করছে এবং আগামী অধিবেশনগুলোতে এই বিষয়টি পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, বিরোধী দলীয় অংশগ্রহণ ও সাংবিধানিক ন্যায্যতা সংক্রান্ত আলোচনা রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ত্রয়োদশ সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম ও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী পক্ষের অংশগ্রহণ না থাকায় সরকারের একক প্রভাব আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।