অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে আপিল বিভাগ রায় বহাল রেখেছে। এর ফলে, সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। এটি হাইকোর্টে চলমান একটি রিট আবেদন সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসে। গত ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ হাইকোর্টের রুল খারিজের রায় বহাল রাখেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার প্রক্রিয়া বৈধ কিনা তা নিয়ে প্রথমে হাইকোর্টে রিট আবেদনের শুনানি হয়। ২৫ নভেম্বর শুনানি শেষে ৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। ওই রায়ে হাইকোর্টের বেঞ্চ দ্বিখণ্ডিত রায় দেন; বিচারপতি ফাতেমা নজীব প্রক্রিয়াটি অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করেন। দ্বিখণ্ডিত রায়ের পর বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়, যিনি তা বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে নিষ্পত্তির জন্য দেন।
রিট আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন।
রিট আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল যে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইন লঙ্ঘন করে দেশীয় অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া আইনগতভাবে বৈধ কিনা। একই সঙ্গে, যে কোনো অপারেটরকে কনটেইনার টার্মিনাল হ্যান্ডলিং পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার আগে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করার বিষয়েও রুলে নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্ট রুলে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, এনসিটির ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। সেই প্রক্রিয়া পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবার চালু করা হয়। রিট আবেদনের মাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়া সত্ত্বেও দেশীয় প্রতিষ্ঠান বা অপারেটরদের সুযোগ না দিয়ে বিদেশি কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ের পর, এই চুক্তি বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা নেই এবং টার্মিনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাবে।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন খাত ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দিকগুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, রুল বহাল রাখার ফলে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলের বাস্তবায়নে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
মামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইন অনুসারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কার্যক্রমে অংশীদারি মডেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। রুল বহালের ফলে এনসিটির প্রক্রিয়া বৈধ হিসেবে স্বীকৃত হলো এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিচারিক নির্দেশনার প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হলো।