বাংলাদেশ ডেস্ক
পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-জিয়ানগর) আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী জানিয়েছেন, সম্প্রতি সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পিরোজপুর জেলায় পাঠানো খেজুর বিতরণের হিসাব সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে জেলায় মোট ১৩৯ কার্টন খেজুর পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে মাসুদ সাঈদী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার কখনো কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি খেজুর বিতরণ করেনি। বরং এ খেজুর বহু বছর ধরে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, তার জানা অনুযায়ী এই প্রথা ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু হয়েছে।
সংসদ সদস্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৮ কার্টন, নাজিরপুর উপজেলায় ২৪ কার্টন এবং জিয়ানগর উপজেলায় ১৪ কার্টন খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করা হয়েছে, বরাদ্দকৃত ৫৬ কার্টন খেজুর যথাযথভাবে অসহায় ও দুস্থ মানুষ, মাদ্রাসা এবং এতিমখানায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, অতীতে খেজুর বিতরণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর তার জানা নেই। তবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপহার হিসেবে পাওয়া খেজুর বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
খেজুর বিতরণ কার্যক্রমটি সৌদি সরকারের King Salman Humanitarian Aid and Relief Center-এর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা স্থানীয় পর্যায়ে বরাদ্দ কার্যক্রম তদারকি করছেন। এ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো গরীব ও দুস্থ জনগোষ্ঠীকে মৌসুমি খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ বিতরণ কার্যক্রমের তদারকি করছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত খেজুরগুলো স্থানীয় তালিকা অনুযায়ী অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণ করা হবে। সংসদ সদস্যের তদারকি ও নির্দেশনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করছে যে, কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মৌসুমি খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষ করে পিরোজপুরের প্রান্তিক এলাকার অসহায় জনগোষ্ঠী খেজুরের মাধ্যমে মৌসুমি পুষ্টি উপকার পাবে।
স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, খেজুর বিতরণের জন্য তালিকা প্রস্তুতকালে সমাজের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত ও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেলার ক্ষুদ্র ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ সরকারের সহায়তা ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দুটির সুফল সরাসরি উপভোগ করতে পারছে। সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য তিনি নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখবেন।