খেলাধূলা ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দের হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় স্পেনের ক্লাবটি। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনটি গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ, অন্যদিকে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়াতে বড় ব্যবধানে জয় প্রয়োজন হবে ম্যানচেস্টার সিটির।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে। ম্যাচের শুরুতে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। তবে দখল ধরে রাখলেও কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় তারা। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় উল্টো দ্রুত পাল্টা আক্রমণে রিয়াল মাদ্রিদের সামনে বিপাকে পড়ে সিটির রক্ষণভাগ।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ১৯তম মিনিটে। গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার লম্বা কিক থেকে বল পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান ফেদেরিকো ভালভার্দে। সিটির রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে তিনি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে এগিয়ে যায় স্বাগতিক দল।
প্রথম গোলের সাত মিনিট পর আবারও গোল করেন ভালভার্দে। ২৬তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছ থেকে পাওয়া পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। দ্বিতীয় গোলের ফলে ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয় এবং সিটির ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
এরপর প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভালভার্দে। সাবেক সিটি খেলোয়াড় ব্রাহিম দিয়াজের দেওয়া উঁচু পাস দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার মার্ক গুহিকে কাটিয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান। এই গোলের মাধ্যমে ২২ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। তবে তার অনুপস্থিতিতেও আক্রমণভাগে কার্যকর ফুটবল প্রদর্শন করতে সক্ষম হয় দলটি। শুরু থেকেই দ্রুতগতির আক্রমণ ও সমন্বিত পাসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সিটির পেনাল্টি বক্সে ফাউলের শিকার হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। পেনাল্টি থেকে নেওয়া তার শটটি দোন্নারুম্মা প্রতিহত করলে গোলের সুযোগটি নষ্ট হয়। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগ সুসংগঠিত ফুটবল প্রদর্শন করে এবং সিটির আক্রমণগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
ম্যাচজুড়ে বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব ছিল তাদের খেলায়। ফলে গোল করার মতো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
দুই লেগের এই পর্বের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ম্যানচেস্টার সিটিকে বড় ব্যবধানে জয় অর্জন করতে হবে। ফলে পরবর্তী ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।