শেয়ার বাজার ডেস্ক
পবিত্র শবেকদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে রাজধানীভিত্তিক শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রামভিত্তিক চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)–তে কোনো ধরনের লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবারের ছুটি দীর্ঘায়িত হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগে থেকেই নির্ধারিত ছুটির মধ্যে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ২৩ মার্চ পর্যন্ত উভয় শেয়ারবাজারের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই সময় শেয়ারবাজারে কোনো ধরনের লেনদেন, নিষ্পত্তি বা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সাধারণত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেন হয়ে থাকে। তবে জাতীয় ছুটি, ধর্মীয় উৎসব বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারবাজারেও কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কয়েক দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ থাকে, যাতে বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উৎসবের সময় পারিবারিকভাবে সময় কাটানোর সুযোগ পান।
ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসে কার্যদিবসে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সময়সূচিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হলেও ঈদের ছুটি শেষে তা আবার স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসবে। স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ডিএসই ও সিএসইর অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম, বাজার তদারকি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
অন্যদিকে, পুঁজিবাজারে মূল লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়মিত লেনদেন চলতে থাকে। এরপর দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পোস্ট-ক্লোজিং সেশন পরিচালিত হয়, যেখানে দিনের শেষ পর্যায়ের কিছু সীমিত লেনদেন সম্পন্ন করা হয় এবং বাজারের দৈনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে বিনিয়োগকারীরা ছুটির আগেই লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণত দীর্ঘ ছুটির আগে অনেক বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে কিছু শেয়ার বিক্রি করে নগদ অবস্থানে যাওয়ার প্রবণতা দেখান, আবার কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এসব বিষয় সম্পূর্ণই বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কৌশল ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ থেকে উভয় শেয়ারবাজারে পুনরায় নিয়মিত লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে। সেদিন থেকে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী শেয়ার কেনাবেচা, লেনদেন নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ডিএসই ও সিএসই–এই দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, লেনদেনের পরিমাণ এবং বাজারের সার্বিক প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। সে কারণে নিয়মিত লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং উৎসবকালীন ছুটির সময়সূচি আগাম ঘোষণা করা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।