ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেন্ট জেমস পার্কে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় প্রথম লেগে ১-১ সমতায় শেষ হলো ম্যাচ, যেখানে স্পেনের জায়ান্ট বার্সেলোনা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচজুড়ে মূলত চাপের মুখে ছিলেন কাতালানরা, তবে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি তাদের একটি মূল্যবান সমতা এনে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক রূপে খেলতে দেখা যায় হোম ক্লাব নিউক্যাসলকে। প্রথমার্ধে তারা বেশ কয়েকটি সুসংগঠিত সুযোগ তৈরি করলেও বার্সেলোনার রক্ষণরেখা এবং গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া সেগুলো কার্যকরভাবে সামলান। বিশেষভাবে, কর্নার থেকে সান্দ্রো টোনালির হেড শট সামলাতে গিয়ে হঠাৎ কিছুটা অসাবধানতা দেখা দিলেও গোললাইন থেকে বিপদমুক্ত করেন পাউ কুবারসি।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। দলের সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে রবার্ট লেভানদোস্কির পায়ে, যিনি পোস্টের কিছুটা পাশ দিয়ে শটটি হারান। এরপরও দলকে প্রান্তিকভাবে সমতা আনার জন্য দৃঢ় প্রচেষ্টা চালানো হয়।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে হোম ক্লাবের পক্ষ থেকে। ডান দিক থেকে জ্যাকব মারফির ক্রস থেকে গোল করেন হার্ভে বার্নস। বলটি গোলরক্ষকের দেহে লেগে গ্যালারির উল্লাসের মধ্যে জালে প্রবেশ করে। এই গোলের ফলে ম্যাচে একপ্রকার নক আউট পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বার্সেলোনার জন্য চাপে থাকা আরও দৃশ্যমান হয়।
তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বার্সেলোনা। ইনজুরি টাইমে বক্সের ভেতরে দানি ওলমোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় কাতালানরা। স্পটকিক থেকে তরুণ তারকা লমিনে ইয়ামাল নিশ্চিত গোল করেন, যেখানে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারন রামসদালের প্রতিরোধ কার্যকর হয়নি।
শেষ মুহূর্তের এই গোল ম্যাচকে ১-১ সমতায় শেষ করে দেয়। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে স্পেনের ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগে নির্ধারিত হবে কোন দল শেষ আটে উঠবে।
ম্যাচের ফলাফল ও সমতা উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বার্সেলোনার জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যা স্পেনের মাঠে তাদের খেলার মান এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা পরীক্ষা করবে। অন্যদিকে, নিউক্যাসল সমর্থকদের জন্য হোম মাঠে গোল করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে সমতা মেনে নিতে হয়েছে।
উভয় দলই দ্বিতীয় লেগে কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাঠে নামবে, যেখানে গোলসংখ্যা এবং প্রতিরোধের মান কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে নির্ধারণী ভূমিকা রাখবে।