আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত এবং বর্তমানে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই। ইরানের কৌশলগত পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিষদের প্রধান কামাল খাররাজি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির ভাষা বোঝে না এবং আলোচনার সময়ই ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
খাররাজি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হন, যার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সীমিত। তিনি আরও বলেন, চলমান উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি উন্মোচিত হচ্ছে। তার মন্তব্য অনুযায়ী, এই চাপ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় আরব দেশসহ অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
খাররাজি আরও উল্লেখ করেন, ইরান কোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবেলায় প্রস্তুত এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ এড়ানোর জন্য সবরকম প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক সমাধানকে প্রায় অসম্ভব করে দিয়েছে।’
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত প্রতিরক্ষা মূলক, তবে এর ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। খাররাজির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে, ইরান এখন কূটনীতিক চাপে নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবস্থান রক্ষা করতে চাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো এখনও সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্প যাচাই করছে। এ পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রকেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি নতুন হামলা এবং প্রতিহামলার ধারা অব্যাহত থাকে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহে বিভ্রাট, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।