ধর্ম ডেস্ক
সৌদি আরবে রমজানের শেষ দশক শুরু হওয়ায় মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে হাজারো মুসল্লি ইতিকাফে অংশগ্রহণ করেছেন। নিবন্ধন সম্পন্ন ও আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার পর তারা মসজিদে অবস্থান নিয়ে ইবাদত, জিকির ও আত্মসমালোচনায় নিমগ্ন রয়েছেন।
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ ইতিকাফকারীদের জন্য বিস্তৃত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মক্কায় ইতিকাফকারীদের জন্য বিশেষ কিট সরবরাহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে স্লিপিং ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, বালিশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী। এছাড়া দিকনির্দেশনা, ব্যবস্থাপনা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, অনুবাদ সেবা, আপ্যায়ন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি প্রদান করা হচ্ছে।
মদিনার মসজিদে নববীতে ইতিকাফে অংশ নেওয়া নারীদের জন্য ২৪ নম্বর গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে মসজিদে নববীতে মোট ৩ হাজার ২০০ মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ৪০০ জন পুরুষ এবং ৮০০ জন নারী। পুরুষদের জন্য ইতিকাফের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মসজিদের পূর্ব দিকের ছাদে, নারীদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পূর্ব সম্প্রসারণ অংশে।
ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলোতে চারটি প্রধান হল রয়েছে এবং প্রতিটি হলে ৪৮টি করে সেকশন রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষণের জন্য লকার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ইবাদতের সময় স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত স্থান বরাদ্দ করা হয়েছে।
ইতিকাফকারীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সুগন্ধি ও বখুর, ইফতার ও সেহরির খাবার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড এবং ইলেকট্রনিক তথ্যপর্দা সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা, মোবাইল চার্জিং পোর্ট, কাপড় ধোয়ার সুবিধা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ আরামদায়ক ঘুমের উপকরণও ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
ইতিকাফ ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যেখানে একজন মুসলমান পার্থিব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখে মসজিদে অবস্থান করে পুরো সময়টুকু আল্লাহর ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনায় কাটান। রমজানের শেষ দশকে এই ইবাদতের গুরুত্ব বিশেষভাবে বর্ধিত।
নিবন্ধন ও অনুমতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন দুই পবিত্র মসজিদের দরজা ইতিকাফকারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মুসল্লিরা রমজানের বাকি রাতগুলো আধ্যাত্মিক সাধনা, ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করবেন, যা তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আয়োজন মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারা দিক থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ইতিকাফ পালন করতে পারেন।