অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় পুলিশ বিভাগ। নিখোঁজের বেশ কয়েক দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মার্কিন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করে বৃষ্টির মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিহতের পরিবার জানায়, তল্লাশি চলাকালীন একটি বাসভবনের ভেতরে রক্তমাখা আলামত সংগ্রহ করেছিল মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংগৃহীত সেই রক্তের নমুনার সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার এই ফলাফলের ভিত্তিতেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে কোন পরিস্থিতিতে বা কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এবং তার নিজ জেলা নোয়াখালীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃষ্টির শিক্ষক ও সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার স্মৃতি চারণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
এর আগে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিকটবর্তী এলাকা থেকে নিখোঁজ অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লিমন ও বৃষ্টি গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। একই ঘটনায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এমন বিয়োগান্তক পরিণতিতে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তারা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এটি কোনো পরিকল্পিত অপরাধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক এই ঘটনার নেপথ্য কারণ নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবিও তুলেছেন অনেকে। বৃষ্টির পরিবার এখন তার মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে। তারা এই কঠিন সময়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এখনই সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার আশ্বাস দিয়েছে তারা।