বাংলাদেশ ডেস্ক
নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের নবনির্মিত তৃতীয় ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মেধানির্ভর, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে আধুনিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জনবান্ধব প্রশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রশাসনিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের জনমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামোই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি উঠে এসেছে, সরকার সেটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই সনদে বর্ণিত প্রতিটি দফা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা। এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। সরকার মনে করে, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে এই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নতুন প্রজন্মকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কেবল প্রথাগত শিক্ষা নয়, বরং কারিগরি ও সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মেধানির্ভর সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন আত্মবিশ্বাসের সাথে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিয়াম ফাউন্ডেশনের সম্প্রসারণ ও এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দক্ষ প্রশাসনই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তাকে ধারণ করেই সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই ঘোষণা সেই প্রক্রিয়ারই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সামগ্রিক বিচারে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। সরকারি কর্মপরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে এই অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বক্তৃতার শেষে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন এবং বিয়ামের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।