1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অবৈধ হজযাত্রীদের আবাসন ও পরিবহনে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা সৌদির, জরিমানার বিধান সামাজিক সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করল এডিবি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই’কে উপেক্ষা করে আগামীর বাংলাদেশ সম্ভব নয়: সংসদ সদস্য আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: সন্দেহভাজন রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর নিশ্চিত সংবাদ দিলো পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজন রুমমেট গ্রেপ্তার সপ্তাহজুড়ে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান: ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৯১৯ কোটি টাকা স্বর্ণের দামে বড় পতন: ২২ ক্যারেট ভরিপ্রতি কমলো ৩২৬৬ টাকা গুজরাটকে হারিয়ে বেঙ্গালুরুর জয়: কোহলির ব্যাটে রানের পাহাড় ও রেকর্ডের নতুন উচ্চতা

সামাজিক সুরক্ষায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করল এডিবি

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি প্রতিবেদক

বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সরকারের চলমান ‘সেকেন্ড স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রগ্রাম’-এর আওতায় এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। গত শুক্রবার এডিবি’র প্রধান কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সুরক্ষামূলক ও প্রতিরোধমূলক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক বঞ্চনা দূর করা এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমিয়ে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত এই ঋণের অর্থ সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং এর আওতা বৃদ্ধির কাজে ব্যয় হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের (সাব-প্রগ্রাম-২) অধীনে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে ডিজিটালাইজড এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়তা করবে। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আকস্মিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরি করাই এই ঋণের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান বৃদ্ধি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং এই ঋণ অনুমোদনের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, এই কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে একটি বিশেষ মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারীদের জন্য সহায়তার পরিধি বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক সামাজিক বিমা বা সুরক্ষাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে বর্তমানে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। এডিবির এই নতুন সহায়তা সরকারের সেই সংস্কার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বা ‘ডিজিটাল ক্যাশ ট্রান্সফার’ আরও গতিশীল হবে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিবি প্রদত্ত এই ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অবদান রাখবে, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতাধীন বিশাল জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যসীমার উপরে ধরে রাখতে সাহায্য করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং শহুরে দরিদ্রদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা স্কিম প্রবর্তনেও এই তহবিল সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বিনিয়োগ করে আসছে। এবারের ঋণ সহায়তার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংস্কার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোটি আরও সুসংহত হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026