আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেলের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা হতে পারে। বিশেষভাবে তারা উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে কোনো তেল সরবরাহ করা হবে না।
আইআরজিসি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।” তারা আরও উল্লেখ করেছে, চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করার ক্ষমতা তাদের হাতে। এই বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলা চালাবে। আমরা এমন কিছু সহজে ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব, যা ইরানের পুনর্গঠনকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে—তবে আমি আশা করি এটি ঘটবে না।” ট্রাম্পের মন্তব্য তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চলমান যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহে সঙ্কট সৃষ্টি করছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানির নৌপথগুলোর মধ্যে একটি এবং এর কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রভাবিত হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, চলমান যুদ্ধ “শিগগির” শেষ হবে। তবে আইআরজিসির বিবৃতির মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের সমাধান এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং মার্কিন বাহিনী এটি একতরফা সমাপ্ত করতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধ আন্তর্জাতিক তেল বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তেলের সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তেলের উপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য।
আইআরজিসি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি যদি উত্তেজনাপূর্ণ রূপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থায়ী সঙ্কটের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
উভয় পক্ষের এই উত্তেজক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।