বাংলাদেশ ডেস্ক
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করেছে। সোমবার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় বিমানটির পাইলট সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন এবং বিমানের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যশোরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে বিমানটিতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, বিমানটির বৈমানিক পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করতে সক্ষম হন। এতে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। অবতরণের পর বিমানটির পাইলটকে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের উড্ডয়ন মহড়া পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব মহড়ার মাধ্যমে বৈমানিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবাহিনীসহ সব ধরনের বিমান পরিচালনাকারী সংস্থায় জরুরি অবতরণের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে পাইলটরা সংকটময় পরিস্থিতিতেও দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। পাইলটদের দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে ঘটনাটির পর বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা পর্যালোচনা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও কারিগরি দল বিমানটির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ত্রুটির উৎস শনাক্ত করার কাজ শুরু করবে। প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রযুক্তিগত যাচাই শেষে বিমানটি পুনরায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দেশের আকাশসীমা সুরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বৈমানিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোমবারের ঘটনাটিও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে ঘটলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও দক্ষতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা না ঘটায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে।