সারাদেশ ডেস্ক
নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালি এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক তিলকখালি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন আজ সোমবার সকাল ১১টায় সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকার বাজেটে ৪ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। খননের ফলে এলাকার কৃষিজমি নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বক্তব্যে বলেন, এই খালটি খননের মাধ্যমে শুধু জলাবদ্ধতা কমবে না, বরং কৃষিক্ষেত্রে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, খনন কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার জলবিন্যাস উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন সহজতর হবে। এই প্রকল্প স্থানীয় কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং বর্ষার সময় জমির পানির নিষ্কাশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
খাল খনন প্রকল্পটি স্থানীয় জনসংখ্যার কৃষি এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলজিইডি সূত্র জানায়, এই প্রকল্প দেশের পুকুর ও খাল উন্নয়নের জাতীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, খাল পুনঃখননের ফলে তাদের কৃষিজমিতে সেচের অভাব দূর হবে এবং বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে তিলকখালি খাল এলাকায় জলাবদ্ধতা কমে যাবে, যা ফসলের ক্ষতি কমাবে এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
উদ্যোগটি জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। খাল খনন ও পুনঃরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করতে এবং কৃষি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।