জাতীয় ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সারা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। তিনি জানান, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস এবং অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। ঈদের ছুটি শেষে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় শুরু হবে।’
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের পরীক্ষা স্থগিত বা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি যোগ করেন। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজ নিজ কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষা সূচি নির্ধারণ করবে।
সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পূর্ববর্তী নির্দেশনায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরুরি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ক্লাস এবং অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা রবিবারও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ অবস্থার মধ্যেই মন্ত্রণালয় সোমবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্থায়ী শিক্ষাব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা প্রভাবিত করতে পারে, তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারকে সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি, সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেডিকেল কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং ক্লাস সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং কলেজ notice board-এর মাধ্যমে প্রকাশ করবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো তথ্য জানতে পারে এবং তাদের পড়াশোনা পরিকল্পনা করতে পারে।
মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার অস্থায়ী শিক্ষাব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পুনঃসূচনা করবে।