সারাদেশ ডেস্ক
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে লাইসেন্সকৃত একনালা বন্দুক থেকে ছররা গুলির ঘটনায় নারী ও শিশু সহ ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ অস্ত্র ও গুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম সোমবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া এলাকায় এই গুলির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, প্রতিবেশী মিজান খান ও মান্নান খানের মধ্যে এলাকার প্রভাব বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার কারণে হারুন খানের বাড়ির সামনে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন রাস্তায় জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় মান্নান খান উত্তেজিত হয়ে হারুন খানের লাইসেন্সকৃত একনালা বন্দুক থেকে তিন রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়েন। এতে নারী ও শিশু সহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা গুরুতর বা সামান্য তা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনার পর শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে শ্রীনগর থানার পুলিশ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে হারুন খান (৭০), আব্দুল মান্নান খান (৬০) এবং মহসিন খান (২৯)কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত হারুন খানের বাড়ি থেকে একটি .২২ বোর পিস্তল, ৬১ রাউন্ড গুলি, একটি একনালা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ এবং ৯টি ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মান্নান খানের বাড়ি থেকে একটি ওয়াকিটকি (চার্জারসহ) জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য শ্রীনগর থানার পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে পাহারা দিচ্ছে।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশু রয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের সহিংসতা সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করছে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।
মুন্সিগঞ্জে সম্প্রদায়িক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন পূর্ব শত্রুতার কারণে সংঘটিত সহিংসতা নতুন নয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত নজরদারি জোরদার করছে।