অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পরিবর্তন এসেছে। দুই দফা বৃদ্ধির পর এবার ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা।
গত বুধবার (৪ মার্চ) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণের তথ্য জানায় বাজুস। সংগঠনটি জানায়, দেশের স্বর্ণবাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মূল্য মূলত স্বর্ণের বার বা কাঁচা স্বর্ণের ভিত্তিমূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে বিক্রয়ের সময় এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে। ফলে ভোক্তাদের গয়না কেনার সময় প্রকৃত মূল্য আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।
এছাড়া গয়নার নকশা, ওজন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত জটিল ডিজাইন বা ভারী গয়নার ক্ষেত্রে শ্রমমূল্য তুলনামূলক বেশি নির্ধারিত হয়। এ কারণে একই ওজনের স্বর্ণের গয়নার দাম বিভিন্ন দোকানে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
দেশের স্বর্ণবাজারে দাম নির্ধারণে বাজুস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, ডলার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সংগঠনটি সময় সময় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। এসব পরিবর্তনের ফলে দেশের খুচরা বাজারে স্বর্ণের গয়নার দামে ওঠানামা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সময় সময় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়।
বাংলাদেশে স্বর্ণ মূলত গয়না তৈরির জন্য ব্যবহৃত হলেও অনেকেই এটিকে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও বিবেচনা করেন। তাই স্বর্ণের দামের পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ছাড়াও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলে।
বাজুস জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। এর আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের বাজারে কয়েক দফা স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন ভরি প্রতি স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।