রাজনীতি ডেস্ক
গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনুশোচনা প্রকাশ না করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে অবস্থান করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের আইন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এটি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকেই এখনো প্রিয়জনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কিছু আর্থিক সহায়তা বা ভাতা দেওয়া হলেও অধিকাংশ পরিবার এখনো স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারেনি।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য একটি সুসংগঠিত ও নিয়মিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই সহায়তা শুধু আর্থিক দিকেই সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় আনা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গুমের অভিযোগ নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের সন্ধান না পেয়ে মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গুমের ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম ও হত্যার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন বক্তা বলেন, গুমের অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্র নির্মাণ উদ্যোগের আয়োজকরা জানান, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। তাদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সমাজে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে গত এক দশকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে অব্যাহত রয়েছে।