আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতে একটি সরকারি ভবন ও দুটি তেলের ডিপোতে গতকাল ইরানের পরিচালিত ড্রোন হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের সরকারি বার্তাসংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তরসহ ২২ তলা উচ্চ ভবনে হামলার ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে নিহত বা আহতের বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর সরকারি কর্মকর্তারা সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তর ও আশপাশের ভবনগুলো থেকে নিরাপত্তা প্রহরী এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরিয়ে ফেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। কুয়েত ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সরকারি ভবন এবং তেলের ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
সরকারি ভবনের পাশাপাশি কুয়েতের দুটি তেলের ডিপোতেও হামলা চালানো হয়। এই ডিপোগুলো বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় আগুন বিমানবন্দর এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে, তবে তেলের ডিপোতে বিস্তীর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার বর্তমান পরিস্থিতি এই হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনও সমঝোতা চুক্তি ছাড়া সংলাপ শেষ হয়। এর পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
এই সিরিজে উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। কুয়েতে হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার কারণে কুয়েতের সরকারি প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়েত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ভবন ও ডিপোতে তৎপর ফায়ার সার্ভিস এবং নিরাপত্তা দল নিয়োজিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।