রাজধানী ডেস্ক
রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি জানান, রমজান ও ঈদকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি ন্যায্য মূল্য বজায় রাখা এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনের সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বাজারে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন, পণ্যের মান এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করেন। তারা ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে স্বচ্ছভাবে পণ্য বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
রমজান মাসে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, ছোলা ও বিভিন্ন মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অতীতে এ ধরনের সময়ে কৃত্রিম সংকট বা মজুদের অভিযোগে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার নজির রয়েছে। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, ভোক্তা অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্যাস সংকট নিরসনের বিষয়েও সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদের আগে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শ্যামবাজার রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয় এবং সেখান থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য বিতরণ করা হয়। ফলে এই বাজারের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি রাজধানীর সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
বাজার পরিদর্শন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।