আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে প্রায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাবারুদ ও সামরিক সহায়তার একটি চুক্তি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি ‘একটি জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েল সরকারের কাছে অবিলম্বে অস্ত্র সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। মার্কিন প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি কৌশলগত আঞ্চলিক অংশীদারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সহায়তা করবে।
জরুরি এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে বিএলইউ-১১০এ/বি বোমা, লজিস্টিকস সহায়ক সেবা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ জর্ডানের কাছে ২৮০ মিলিয়ন ডলারের রাডার এবং সম্পর্কিত সামগ্রি বিক্রির একটি চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং তাদের উৎপাদনের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এ নিয়ে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এখন সংঘর্ষের অঞ্চলে পরিণত হওয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই চুক্তিগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অঞ্চলে সামরিক প্রতিযোগিতা এবং অস্ত্র সংক্রান্ত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসরায়েল ও জর্ডানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতি এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
উল্লেখ্য, এই ধরনের জরুরি অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত সাধারণত কংগ্রেসের অনুমোদনের বিষয় হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ইসরায়েল ও জর্ডানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।