আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, এমন সংবাদ প্রকাশের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই অনুযায়ী যুদ্ধের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
হেগসেথ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কে কার সঙ্গে কথা বলছে, সে বিষয়ে আমাদের কমান্ডার-ইন-চিফ পুরোপুরি অবগত। প্রকাশ্যে বা গোপনে যা-ই ঘটুক না কেন, তার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো শত্রুকে বিপদে ফেলা। এখন শুধু সেই ইরানিদেরই চিন্তা করা উচিত, যারা বেঁচে থাকার আশা করছেন।”
এর আগে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল, এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্সিয়াল প্রেস সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
রাশিয়ার রাষ্ট্রসংবাদমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, ফোনালাপের সময় পুতিন আরও উল্লেখ করেছেন যে তিনি পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এই আলাপচারিতার মাধ্যমে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এবং ইরানের এই তথ্য বিনিময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশল ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের গতিবিধি নতুন করে প্রভাবিত হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মনিটরিং ও সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং জোট রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করতে সামরিক ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব বেড়েছে। সেখান থেকে পাওয়া সংকেত ও পদক্ষেপের ওপর ভবিষ্যতের মধ্যপ্রাচ্য নীতিমালা নির্ভর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।