বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রমজান মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই ইফতার অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন। এ সময় পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং বাম পাশে মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বসেন। ইফতার অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের পরিবেশকে আরও আন্তরিক করে তোলে।
ইফতার অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক কোরের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠানকে সাধারণত পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রমজান মাস মুসলিম বিশ্বের জন্য ধর্মীয় গুরুত্ববাহী সময়। এ সময় বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজনের একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রতিবছর দেশি-বিদেশি অতিথিদের সম্মানে এ ধরনের ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী কূটনীতিকরা ইফতারের আগে ও পরে একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ ধরনের আয়োজন কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সরকারি পর্যায়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সৌজন্য বিনিময়ের গুরুত্ব রয়েছে। রমজান মাসে আয়োজিত এ ধরনের ইফতার অনুষ্ঠান সেই যোগাযোগের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।