জাতীয় ডেস্ক
ইরানে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী নোমান সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে সাম্প্রতিক হামলাগুলি মূলত আমেরিকান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের উপর কোনো আক্রমণ ঘটানো হচ্ছে না।
নোমান সিদ্দিকী বলেন, “দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় আমার থাকা অবস্থায় পাশে আমেরিকার কনসাল অফিসে হামলা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ নিরাপদে আছে। দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।” তিনি নোয়াখালীর বাসিন্দা এবং দুবাইয়ে অবস্থানকারী প্রবাসী হিসেবে পরিস্থিতি স্বচ্ছন্দে বর্ণনা করেছেন।
প্রবাসীরা বুধবার (৪ মার্চ) থেকে দেশে ফেরানো শুরু হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটটি রাতের সময় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে দেশে অবতরণ করে। নোমান সিদ্দিকী জানান, তার প্রাথমিক ফ্লাইট ১ মার্চের জন্য নির্ধারিত ছিল, তবে তা বাতিল হওয়ায় তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, “ইউএস-বাংলা আমাদের না আনলে আমাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যেত। প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ইউএস-বাংলাকে ধন্যবাদ।”
নোমান সিদ্দিকী আরও জানান, “দুবাই সরকার সব সময় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। ওখানে সাধারণ মানুষের উপর কোনো আক্রমণ ঘটানো হচ্ছে না, হামলাগুলি মূলত আমেরিকার ওপর কেন্দ্রিত।”
এদিকে, দুবাইয়ে অবস্থানকারী একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাওসিফও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “ইরান যে কার্যক্রম করছে তা আমেরিকা ভিত্তিক। সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ।” দেশে ফিরে তিনি বলেন, “দেশে ফিরে ভালো লাগছে। ওখানে অনেক চিন্তিত ছিলাম। মা-বাবা খুব চিন্তিত ছিলেন। মিসাইল হামলার আওয়াজ শুনেছি।”
এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারদের মধ্যে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। প্রাথমিকভাবে দুবাই থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে কয়েকটি ফ্লাইট ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে প্রবাসীরা স্বল্প সময়ে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।