বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর দুই রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব ও দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একাধিক গেজেট প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩বি(আইআই) বিধি অনুযায়ী এ পুনর্বণ্টন কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের মধ্যে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে এবং নতুন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে তার বর্তমান দায়িত্বের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তাদের দায়িত্বের পরিধি নির্ধারণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। নতুন গেজেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হলো।
সরকারি কার্যপ্রণালিতে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের ভূমিকা হলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন, নীতিগত পরামর্শ প্রদান এবং সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করা। মন্ত্রী পদমর্যাদা প্রাপ্ত উপদেষ্টারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি, নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।
কৃষি ও শিল্প—উভয় খাতই সরকারের অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত। কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। অন্যদিকে শিল্প খাত রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দুই উপদেষ্টাকে নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে নীতিগত সমন্বয় ও কার্যক্রম তদারকি আরও সুসংহত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির আদেশের অন্যান্য শর্ত ও বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ তাদের পদমর্যাদা, ভাতা-সুবিধা এবং দাপ্তরিক কাঠামো আগের মতোই বহাল থাকবে। কেবল দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হয়েছে।
সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এ ধরনের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কার্যকর করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়সমূহে প্রেরণ করা হয়। নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী দুই উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে সরকারের চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশ নেবেন।