আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সেনাবাহিনী ও এর আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট বুধবার (৪ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন দায়িত্বশীল সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছিল। নতুন এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই যুদ্ধবিমানটিকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ধ্বংসাবশেষ এবং পাইলটদের বিমানের ধ্বংস হওয়ার আগে বহির্গমন করার দৃশ্য দেখা গেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সোমবার সকালেও ইরান-কুয়েত সীমান্ত এলাকায় একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ওই বিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার ফুটেজ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্যতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও কূটনীতিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিমান চলাচল, সামরিক স্থাপনা নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নানান ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে দিয়েছে।