বিনোদন ডেস্ক
মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বনগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তনয় শাস্ত্রী। মামলায় ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে এবং ওই অনুষ্ঠানের জন্য প্রদত্ত ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি অগ্রিম ফেরত চাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কয়েক দিন আগে বনগাঁয়ের নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত বাৎসরিক অনুষ্ঠানের সময়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান চলাকালীন, মঞ্চে হঠাৎভাবে যাওয়া ও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে উপস্থিত হওয়াকে কেন্দ্র করে মূল উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রী ও ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ঘটেছিল বিবাদ। অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছেন, রাত ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার অনুমতি ছিল, তাই মঞ্চ থেকে নামার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর বনগাঁ থানায় হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। পরে বনগাঁ মহকুমা আদালতে অভিনেত্রী গোপন জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তনয় শাস্ত্রী জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
এরপর তনয় শাস্ত্রীও বনগাঁ থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন। এবার আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা মামলায় তিনি মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ আনেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে মিমি তার মানহানি করেছেন।
কর্মীদের বরাতে জানা গেছে, মামলায় চুক্তিভঙ্গের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য নেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে, যা মোট ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি। মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ রুপি দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিমি চক্রবর্তীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানহানি ও চুক্তিভঙ্গের মামলায় আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে এবং উভয় পক্ষকে যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং দর্শক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বনগাঁ থানার পুলিশ ও আদালত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।