অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বাজার বা সরবরাহ শৃঙ্খলায় আপাতত কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখবে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও হরমুজ প্রণালি বা অঞ্চলে সাময়িক অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল, যা যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মুকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এই প্রেক্ষাপটে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সরকার পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।”
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা বা সেফা) বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “রাষ্ট্রদূত নীতিনির্ধারক নন। নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকার পর্যায়ে নেওয়া হয়।”
মন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের এবং ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা বন্দরগুলো পুনরায় চালু করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি আদান-প্রদানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।”
হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম ওঠা-নামা, তেল সরবরাহে অস্থিরতা এবং পরিবহন ব্যাঘাতের সম্ভাবনা থাকে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সরবরাহ চেইনে অতি সতর্ক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সাধারণ জনগণ এবং ব্যবসায়ী উভয়কেই নিরাপত্তা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বল্প-মেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দেশীয় সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থাপনা ও স্টক প্রস্তুতি সাপেক্ষে তা দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহে তেমন প্রভাব ফেলবে না। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, যে পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্দর পুনঃচালনা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, এবং কূটনৈতিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই বৈঠক প্রমাণ করে যে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বজায় রাখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।