আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংযুক্ত জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সংস্থা ইউনেসকো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর চলমান সংঘাতে ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষভাবে তেহরানের ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরের পর এই বিবৃতি এসেছে।
গোলেস্তান প্রাসাদ কাজার রাজবংশের সময় নির্মিত একটি রাজকীয় কমপ্লেক্স, যা পরবর্তীতে পাহলভি রাজবংশের সরকারি আসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রাসাদটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে স্বীকৃত এবং ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন।
বিবৃতিতে ইউনেসকো স্মরণ করিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষিত। বিশেষভাবে ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন এবং ১৯৭২ সালের বিশ্ব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কনভেনশন অনুযায়ী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ অপরিহার্য। ইউনেসকো জোর দিয়ে বলেছে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা করা আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের আরগ স্কয়ারের কাছে গোলেস্তান প্রাসাদের এলাকায় একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে প্রাসাদের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে প্রাসাদের কয়েকটি ঐতিহাসিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোলেস্তান প্রাসাদের কমপ্লেক্সে নানা ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী এবং শিল্পকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে, যা কাজার এবং পাহলভি রাজবংশের সময়কালকে তুলে ধরে। প্রাসাদটি তেহরানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র এবং ইরানের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশ্বব্যাপী ইতিহাসবিদ ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণকারীরা এই ক্ষয়ক্ষতির খবরের পর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাসাদের ক্ষয়ক্ষতি শুধুমাত্র ইরানের নয়, সমগ্র মানবজাতির ঐতিহ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংস। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের সাংস্কৃতিক স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতিহাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোলেস্তান প্রাসাদ শুধু একটি রাজকীয় আসন নয়, এটি ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি সমৃদ্ধ চিত্র বহন করে। এর ক্ষয়ক্ষতি ইতিহাস গবেষণা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউনেসকোর এই উদ্বেগ প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘাত থেকে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।