ক্রীড়া প্রতিবেদক
এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুর ফাইনালে জাপানের ক্লাব গাম্বা ওসাকার কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে সৌদি আরবের ফুটবল ক্লাব আল নাসর। শনিবার অনুষ্ঠিত এই চূড়ান্ত ম্যাচে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে যায় রিয়াদের ক্লাবটি। তবে এই পরাজয়ের চেয়েও ফুটবল বিশ্বে এখন বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আল নাসরের পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই একমাত্র গোলটি করে এগিয়ে যায় গাম্বা ওসাকা। ম্যাচের বাকিটা সময় আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে সমতায় ফেরার জোর চেষ্টা চালিয়েও জাপানি ক্লাবটির রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় আল নাসরের ফরোয়ার্ড লাইন। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টুর শিরোপা ঘরে তোলে গাম্বা ওসাকা। এর মাধ্যমে এশীয় ক্লাব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে আরও একবার রাজত্ব কায়েম করল জাপানের ক্লাবটি।
খেলার নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর থেকেই মাঠে রোনালদোর আচরণ ও শরীরী ভাষায় চরম হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। এরপর প্রথা অনুযায়ী বিজয়ী ও বিজিত দলের জন্য আয়োজিত আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আল নাসরের ফুটবলাররা যখন রানার্স-আপ মেডেল নিতে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে দেখা যায়নি। দলের অধিনায়কের এই অনুপস্থিতিতে ক্লাবটির কোচ জর্জ জেসুস সামনে থেকে দলের খেলোয়াড়দের নেতৃত্ব দেন এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দলের অধিনায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ফুটবল মহলে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আল নাসর ক্লাবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত রোনালদোর এই আচরণের বা অনুপস্থিতির কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা কারণ স্পষ্ট করা হয়নি। তবে ম্যাচ শেষে ধারণকৃত কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মাঠের ভেতরেই অত্যন্ত হতাশ ও বিমর্ষ অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপীয় ফুটবল ছেড়ে সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর রোনালদোর মূল লক্ষ্য ছিল আল নাসরের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক শিরোপা জয় করা। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু ছিল তার সেই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম বড় একটি সুযোগ। ফাইনালে এসে এভাবে শিরোপা বঞ্চিত হওয়ার পর মানসিক ধাক্কা সামলাতে না পেরেই তিনি মেডেল গ্রহণ অনুষ্ঠান এড়াতে মাঠ ত্যাগ করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেশাদার ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ট্রফি ও ব্যক্তিগত রেকর্ডের অধিকারী রোনালদো পরাজয় সহজে মেনে নিতে পারেন না—এমন ভাবমূর্তি তার ক্যারিয়ার জুড়েই ছিল। তবে এশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে পুরস্কার বয়কটের মতো আচরণ আন্তর্জাতিক ফুটবলের আচরণবিধির পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে এখন বিশদ বিশ্লেষণ চলছে। একই সঙ্গে ক্লাব হিসেবে আল নাসর তাদের অধিনায়কের এই আচরণের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর ক্রীড়ামোদীদের।