ক্রীড়া প্রতিবেদক
সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বড় কোনো শিরোপা জেতার অপেক্ষার অবসান ঘটেনি। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে আল নাসরকে পরাজিত করে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে জাপানি ক্লাব গাম্বা ওসাকা। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম জাপানি ক্লাব হিসেবে টুর্নামেন্টের এই সংস্করণের শিরোপা নিজেদের করে নিল তারা।
শনিবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর হাইভোল্টেজ ফাইনালে আল নাসরকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে গাম্বা ওসাকা। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে ডেনিজ হুমেতের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ক্লাব ফুটবলে ২০০৮ সালে মূল এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর এশিয়ান পর্যায়ে এটিই গাম্বা ওসাকার সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পটলাইট ছিল আল নাসরের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বড় কোনো মহাদেশীয় ট্রফি না পাওয়ার যে আক্ষেপ রোনালদোর ছিল, তা ঘোচানোর বড় সুযোগ ছিল এই ম্যাচ। তবে মাঠের লড়াইয়ে জাপানি ক্লাবটির সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও কৌশলী ফুটবলের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে আল নাসরের তারকাখচিত আক্রমণভাগ।
খেলার প্রথমার্ধের ২৯তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি পায় গাম্বা ওসাকা। আল নাসরের একটি আক্রমণভাগের ভুল পাসের সূত্র ধরে পাল্টা আক্রমণে যায় জাপানি ক্লাবটি। ডিফেন্স লাইনের ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে দারুণ এক শটে আল নাসরের জালে বল পাঠান স্ট্রাইকার ডেনিজ হুমেত। গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আল নাসর। তবে প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় গাম্বা ওসাকা।
বিরতির পর সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের ধার বাড়ায় আল নাসর। সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্স এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো একের পর এক আক্রমণ করেও গাম্বা ওসাকার রক্ষণব্যূহ ভাঙতে পারেননি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্সের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং অপর একটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন গাম্বার ডিফেন্ডাররা। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচেই নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন রোনালদো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি সহজ সুযোগ পেলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
নির্ধারিত সময় শেষে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে গাম্বা ওসাকা। এই পরাজয়ের ফলে আল নাসরের এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বপ্ন যেমন ধাক্কা খেল, তেমনি রোনালদোর ক্যারিয়ারে ট্রফি জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘায়িত হলো। এশীয় ফুটবলে জাপানি ক্লাবগুলোর আধিপত্যের ধারাবাহিকতায় এই জয় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।