অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচিতে অবস্থিত তার দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে সব ধরনের ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। ইসলামাবাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এ সিদ্ধান্তের তথ্য জানিয়েছে। এ নির্দেশ আগামী শুক্রবার, ৬ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উক্ত সময়ের মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত সকল ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে সম্প্রতি উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচিতে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কনস্যুলেটে প্রবেশের চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়।
হামলার আগে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে করাচি, ইসলামাবাদ ও লাহোরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর জন্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হলেও দেশটিতে ভিসা প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও সাধারণ মানুষের আন্তর্জাতিক যাত্রার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে করাচি, ইসলামাবাদ ও লাহোরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে টহল জোরদার করেছে এবং সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করছে।