অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার সকালে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বাজুস মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অন্যান্য কাঁচামালের দামের ওঠানামার সঙ্গে স্থানীয় স্বর্ণের বাজারও সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে। বাজারে এমন দ্রুত পরিবর্তন ভোক্তাদের স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা এবং জুয়েলারি খাতের কার্যক্রমে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা হয়, যার কারণে ডলার মূল্যের ওঠানামা ও আন্তর্জাতিক স্বর্ণমূল্যের বৃদ্ধি সরাসরি ভর্তুকি ছাড়া স্থানীয় দামে প্রতিফলিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় চাহিদার চাপ সামঞ্জস্য না হলে স্থানীয় স্বর্ণের মূল্য আরও বাড়তে পারে।
বাজুসের এই পদক্ষেপ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। তারা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে বাজারে হঠাৎ মূল্য পরিবর্তনের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়।
স্বর্ণের এমন ওঠানামা সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদা, এবং ভেজালমুক্ত পিওর গোল্ডের লেনদেনের উপর নির্ভর করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি তেজাবি স্বর্ণের বাজারে চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দ্রুত দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞরা মনে করেন, স্বর্ণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ গ্রহণ করলে বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি কমানো সম্ভব।