রাজধানী ডেস্ক
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। যাত্রীরা ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যেকোনো দিনের ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। কাউন্টার ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমেই টিকিট বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৩ মার্চ সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার এবং নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একযোগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। প্রথম দিনে ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিনের যাত্রার টিকিট ছাড়া হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীরা অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাসের সময়সূচি, রুট এবং আসন পছন্দ করে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। একই সঙ্গে কাউন্টার থেকেও সরাসরি টিকিট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই ক্ষেত্রেই ভাড়া সমান থাকবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট প্রতিটি কাউন্টারে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। এর মাধ্যমে যাত্রীদের ভাড়া সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়া কার্যকর থাকবে এবং তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাত্রা করেন। এ সময় পরিবহন খাতে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও কালোবাজারির মতো অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে এবার আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সেক্রেটারি।
তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারি জোরদার থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের সময় সড়কপথে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে রাজধানী থেকে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী রুটগুলোতে চাহিদা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এ কারণে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার প্রথম কয়েকদিনেই অধিকাংশ জনপ্রিয় সময়সূচির আসন দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাত্রীদের ভিড় এড়াতে আগেভাগে টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সার্বক্ষণিক তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে যাত্রীদের আস্থা আরও বাড়বে।
এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর মধ্য দিয়ে এবারের ঈদযাত্রার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হলো।