আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের আরএএফ আক্রোতিরি সামরিক ঘাঁটিতে সোমবার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাতে সংঘটিত এই ঘটনায় ঘাঁটির সদস্যদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আক্রোতিরি ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার সময় এই ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চার ধ্বংসের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযান চালানোর অনুমতি পায়। এ কারণে আক্রোতিরিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
আক্রোতিরি ঘাঁটি দক্ষিণ সাইপ্রাসের লিমাসল শহরের কাছে অবস্থিত এবং এটি একটি ব্রিটিশ বিদেশী অঞ্চল। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ওই এলাকায় রক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, বিমান ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপন করেছে। এই ঘাঁটিগুলো মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরক্ষামূলক হামলায় ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাজ্য ইরানের উপর সরাসরি হামলায় জড়িত নয় এবং আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্টে বলেছেন, “ইরান একটি ধ্বংসাত্মক কৌশল অনুসরণ করছে। আমরা আমাদের মিত্রদের এবং ওই অঞ্চলের মানুষের সমষ্টিগত আত্মরক্ষার জন্য সমর্থন প্রদান করছি।” তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে শান্তি ও প্রতিরক্ষা মূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ এবং স্থানীয় ড্রোন হামলা সম্ভাব্য উত্তেজনা বাড়াতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আক্রোতিরি ঘাঁটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি মোতায়েন করা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের অংশ।
উল্লেখ্য, এই হামলার ফলে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এমন ড্রোন হামলা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা বাড়াতে পারে।
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের উপস্থিতি এবং সামরিক কার্যক্রম বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপগুলি ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার প্রেক্ষিতে গৃহীত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ। ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।