খেলাধূলা ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর ওপর। এর মধ্যে প্রথম দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে দল সমস্যার মুখে পড়েছে।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দল রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার পর আপাতত ভারতে অবস্থান করছে। টুর্নামেন্ট আয়োজকরা জিম্বাবুয়ে ও অন্যান্য দলের জন্য দেশে ফেরার বিকল্প রুট খুঁজে দেখছেন।
ইএসপিএনক্রিকইনফো অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ে দল ধাপে ধাপে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিল। সোমবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে দলের কিছু সদস্য রওনা দেওয়ার কথা ছিল, বাকিরা পরে যেতেন। তাদের জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বুক করা হয়েছিল, যা দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারে পৌঁছানোর পথ প্রদর্শন করছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যান্য এয়ারলাইনস ও ভিন্ন রুট বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ে দল ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লির একটি হোটেলে থাকার জন্য বুকিং করেছে। দলের কোচ জাস্টিন স্যামন্স জানিয়েছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যখন ম্যাচ শুরু করি তখনও কোনো তথ্য পাইনি। ম্যাচ চলাকালীন আমরা কোনো নতুন তথ্য পাইনি।”
অপর দিকে, পাকিস্তান দল সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর শনিবার কলম্বো থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে লাহোরে ফিরে গেছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জটিল হয়। এতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা এবং ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে।
আইসিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সরাসরি টুর্নামেন্ট পরিচালনায় প্রভাব ফেলে না। তবে অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশে ফেরার জন্য দুবাইসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন। তাই বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন হাব হয়ে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এছাড়া আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শক দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছে। খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় একটি বিশেষ ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও চালু করা হয়েছে, যা ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয় তত্ত্বাবধান করছে।