আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন–ইসরাইলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রেক্ষাপটে ইরান একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি কুয়েতও আক্রান্ত হয়েছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলায় দেশটিতে একজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের আদান হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের চিকিৎসা প্রদান করছে। মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহতদের সবাই বিদেশি নাগরিক। পরে আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাবের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের আদান হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আদান হাসপাতালে পাঁচজনের জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. আব্দুল্লাহ আল-সানাদ বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে। বক্ষ, মাথা ও পেটসহ একাধিক স্থানে জখম এবং অস্থিভঙ্গের ঘটনা রয়েছে। তিনি জানান, সকল রোগী অনুমোদিত চিকিৎসা প্রোটোকল অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা পাচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে সংঘাতের রূপ নেওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কুয়েত ভৌগোলিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটলে দেশটির নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কুয়েতের স্বাস্থ্যখাত জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত হতাহতের আশঙ্কায় বিভিন্ন হাসপাতালকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এবং এর প্রভাব জ্বালানি বাজারসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।