আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে টানা ষষ্ঠবারের মতো হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। রোববার (১ মার্চ) উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ দাবি সামনে আসে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোররাত থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর পরপরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে আকাশপথে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কিছু দেশে ধর্মীয় সমাবেশ সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত তারাবির নামাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসমাগম কমিয়ে আনা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এ উত্তেজনার পটভূমিতে এর আগে ইসরায়েলের তেলআবিবে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এতে কমপক্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ১২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ, যা বিভিন্ন সময়ে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় যেকোনো সংঘাত সরাসরি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে। জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর এসব দেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও এমন পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্বাধীন যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।