আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরতের (ইউএই) বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে দুবাইয়ে আজ সকালে আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ‘জোরালো’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে, গতকাল জুমেইরাহ সৈকতের পাশে অবস্থিত আইকনিক ‘বুর্জ আল আরব’ হোটেলের বাইরের অংশে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম দফতর জানিয়েছে, ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ায় হোটেলকে আঘাত করতে পারেনি এবং কেউ হতাহত হননি। হোটেলের বাইরের সামান্য অংশে আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
একই সময়ে জেবেল আলি বন্দরেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বন্দরের একটি বার্থে প্রতিরক্ষা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগে। জেবেল আলি বন্দর মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্দর হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, দুবাইয়ের আল ধাফরা মার্কিন বিমান ঘাঁটিকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু বানায়।
ইরান এককভাবে শুধু দুবাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালায়। এতে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতর অন্তর্ভুক্ত ছিল। হামলার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
বাহরাইন, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরতের রাজধানী আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত বা অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই হামলা ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা অঞ্চলের উত্তেজনার সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে বাণিজ্য ও নৌপরিবহন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল প্রেক্ষাপটে এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর ওপর একযোগে হামলা চালানোর ফলে অঞ্চলটির সামরিক ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সতর্ক থাকতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।