1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে শিশু আইসিইউ সংকট ও মৃত্যুর ঘটনা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্বের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে জোরদার মনোযোগের ঘোষণা রাজধানীতে স্কুল সময়ের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে নির্দেশ বিআইডব্লিউটিসিকে জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা নুরজাহান খানম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠকে হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভুটান তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ

খামেনি নিহতের পর ইরানে অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে গঠিত এ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের নির্বাহী দায়িত্ব পালন করবে। রোববার সকালে সরকারিভাবে খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদের অন্য দুই সদস্য হলেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই এবং প্রভাবশালী সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম। ইরানের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যু বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অন্তর্বর্তী কাঠামো কার্যকর থাকে।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। শনিবার রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হন। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার অবস্থান সর্বাধিক ক্ষমতাধর; সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর তার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তার ভূমিকা নির্ধারক।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রণীত ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ শূন্য হলে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা মৃত্যুবরণ করলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) নতুন নেতা নির্বাচিত করবে। সে সময় পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থাই কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে তার নেতৃত্বে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, সেটিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে তেহরানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে এবং কত সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংবিধান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ পরিষদই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যু ও পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অগ্রগতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026