আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শনিবার ইরানে চালানো হামলার সময় রাজধানী তেহরানে তার কার্যালয়ে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুতে দেশব্যাপী ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের সাধারণ ছুটি জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে পৃথক হামলায় অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি ২৪টি প্রদেশে মোট নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হতাহতের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খামেনির মৃত্যুতে তার জন্মশহর মাশহাদ এবং রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ সড়কে নেমে শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে শোকসভা, দোয়া মাহফিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উপযুক্ত সময়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে। শনিবারের হামলার পর ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হওয়ায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সাময়িকভাবে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। এই কাউন্সিলে প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য থাকবেন। স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইমাম খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এই ঘটনার পর নতুন মাত্রা পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন দেশ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ না নেয়। বর্তমানে ইরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগির দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।