খেলাধূলা ডেস্ক
রাজশাহী ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ফরম্যাটের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) গ্রুপপর্বের খেলা শনিবার শেষ হয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ দিনে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করেছেন তরুণ ওপেনার জিসান আলম। এর আগে টুর্নামেন্টে শতকের দেখা পান আকবর আলিও। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে এসব ক্রিকেটার জাতীয় দলের নির্বাচকদের বিবেচনায় আসতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
গ্রুপপর্ব শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত ভালো ফর্মে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে জিসান আলমের এটি প্রথম সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে আকবর আলির ইনিংসকেও তিনি উল্লেখযোগ্য বলে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ক্রিকেটার যদি ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারেন এবং পারফরম্যান্সে স্থিতিশীলতা দেখাতে পারেন, তাহলে নির্বাচকরা স্বাভাবিকভাবেই তাকে বিবেচনায় নেবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা, যেখানে জাতীয় দল ও হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের নজরে আসার সুযোগ থাকে তরুণ ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারদের জন্য। চলমান আসরে মোট ৬০ জন ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। আশরাফুল মনে করেন, এই খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের সামনেই জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। ব্যস্ত এই সূচির কারণে দল ব্যবস্থাপনায় রোটেশন নীতির প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া লিগে ভালো করা ক্রিকেটারদের সামনে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তার মতে, দীর্ঘ সময়জুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হলে বিকল্প ও প্রস্তুত খেলোয়াড়ের ভাণ্ডার থাকা জরুরি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে বড় ইনিংস খেলার সক্ষমতা একজন ব্যাটসম্যানের মানসিক দৃঢ়তা ও টেকনিক্যাল প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। জিসান আলমের প্রথম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি তাই তার ক্যারিয়ারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে, আকবর আলির সেঞ্চুরিও তাকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস জোগাতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আশরাফুল। তার মতে, শান্ত বর্তমানে ভালো ছন্দে রয়েছেন এবং ইনিংস গঠনের কৌশল সম্পর্কে সচেতন। সাম্প্রতিক একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে শান্তর শতককে তিনি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেও তিনি দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তরুণ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখা এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য শক্তিশালী বেঞ্চ শক্তি অপরিহার্য। বিসিএলের মতো প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স সেই প্রস্তুতিরই অংশ। ফলে চলমান আসরে যেসব ক্রিকেটার নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছেন, তাদের জন্য জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারে।
গ্রুপপর্ব শেষে এখন নকআউট পর্বের প্রস্তুতি চলছে। এই পর্যায়ে পারফরম্যান্স আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ধারাবাহিকতা, মানসিক দৃঢ়তা ও ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়ই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পথচলায় প্রভাব ফেলতে পারে।