প্রবাস ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির কারণে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়া যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বর্তমানে ৮০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে তাত্ক্ষণিকভাবে আরও হোটেল বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, “সর্বশেষ একটি ফ্লাইটে ৫৩ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের আমরা হোটেলে নিয়ে যাচ্ছি। রাতের সেহরি খাওয়ানোর পর পরদিন এসি বাসের মাধ্যমে সিলেটে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে একটি ফ্লাইট চলাচলের কথা রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ যদি ফ্লাইট পরিচালনা করে, তবে যাত্রীরা সেখানে যেতে পারবেন। না হলে মন্ত্রণালয় তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশি মিশন ও দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।
বিদেশে বাংলাদেশিদের হতাহতের বিষয়ে তিনি বলেন, “কুয়েতে বিমানবন্দরে হামলার সময় তিনজন বাংলাদেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং একজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আমাদের দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।”
এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যাত্রীদের হোটেল এবং স্থানান্তরের ব্যবস্থা ছাড়াও বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশন পর্যবেক্ষণ করছে যাতে যেকোনো বিপর্যয় মোকাবিলা করা যায়। দেশের প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানে মন্ত্রণালয় নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।