অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণ বিক্রয়ের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হারে পার্থক্য থাকতে পারে।
এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। সেই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর এবং স্থানীয় বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি দেশের স্বর্ণের মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাজুসের এই মূল্য পরিবর্তন মূলত বাজারের চলমান চাহিদা ও সরবরাহের সামঞ্জস্য রক্ষার প্রয়াস। ভোক্তারা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ এখনও একটি প্রধান বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে রয়ে গেছে, বিশেষ করে উৎসব এবং বিবাহমূলক মৌসুমে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাজুসের প্রণীত ন্যূনতম মজুরি ও ভ্যাট প্রয়োগ নিশ্চিত করে বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রিত লেনদেন নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি, স্থানীয় জুয়েলারিরা নতুন মূল্য অনুযায়ী তাদের বিক্রয় নীতি সামঞ্জস্য করে গ্রাহকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
বাজারে স্বর্ণ ও রুপার স্থিতিশীলতা এবং দাম সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাজারে দর ওঠানামা এবং দেশীয় চাহিদা বিবেচনা করে দেশের বাজারে দাম পরিবর্তন হচ্ছে।