বিনোদন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য বিদায়ী সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬ মাসে মোট ২১টি চলচ্চিত্র নির্মাণের দাবি করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। সেখানে তিনি ‘মুনসুন রেভুলুশন’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রকল্প, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৬ বছরের শাসনকালভিত্তিক বিভিন্ন প্রযোজনা এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পন্ন কাজের বিবরণ তুলে ধরেন।
ফারুকী জানান, একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৬ বছরের শাসনকাল নিয়ে ঘোষিত আটটি চলচ্চিত্রের মধ্যে পাঁচটি নির্মিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, আটটির মধ্যে পাঁচটি সম্পন্ন না হলেও একই সময়ে ২১টি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘মুনসুন রেভুলুশন’ প্রকল্পটি দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রথমত, বিভাগীয় পর্যায়ে চলচ্চিত্র নির্মাণবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগে এসব কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে এবং তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয়ত, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ সময়ের শাসনকাল সম্পর্কিত ঘটনাবলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যেই আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
ফারুকীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত আটটির মধ্যে দুটি প্রামাণ্যচিত্র ও একটি কাহিনীচিত্রের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেগুলো প্রিভিউ শেষে মুক্তির প্রস্তুতি রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটির চিত্রনাট্য রিভিউ কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং কমিটি মন্ত্রণালয়ে মতামত প্রদান করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই পুনর্জাগরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ বছরের শাসনকাল ও জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পিত হয়। সে প্রেক্ষাপটে ২১টি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এসব প্রযোজনার মধ্যে রয়েছে—‘পিলখানা: ৩৬ আওয়ার অব বিট্রেয়াল’, ‘আয়নাঘর ফাইলস’, ‘ক্লেপ্টোক্রেসি’, ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ সিরিজ, ‘ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ’ এবং ‘ট্রায়াল অব জুলাই ম্যাসাকার’ প্রভৃতি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রামাণ্যচিত্র জুলাই মাসজুড়ে অনলাইনে প্রকাশ করা হয় এবং পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
ফারুকী দাবি করেন, এসব কনটেন্ট ব্যাপক দর্শকপ্রাপ্তি অর্জন করে এবং নির্দিষ্ট একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে মিলিয়ে এক কোটিরও বেশি ভিউ হয়েছে। তবে এ পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।
অপূর্ণ থাকা কাহিনীচিত্রগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, ঘটনার নিকটবর্তী সময়ে নির্মিত চিত্রনাট্যগুলো প্রত্যাশিত মান অর্জন করেনি বলে তাঁদের উপলব্ধি হয়। এ কারণে রিভিউ কমিটিকে চিত্রনাট্যগুলোর ওপর আরও কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সময়ে তাঁদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে আসে। তাঁর মতে, নতুন সরকার প্রয়োজন মনে করলে জমাকৃত চিত্রনাট্য থেকে ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারে।
ফারুকী আরও জানান, দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন কাজের তালিকা এবং উত্তরসূরির জন্য প্রস্তুত করা নোটস সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি ভাগাভাগি করেছেন। পাশাপাশি তা ব্যক্তিগত প্রোফাইলেও প্রকাশ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘোষিত এসব প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। পরিকল্পিত চলচ্চিত্রগুলোর অগ্রগতি, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও নিরীক্ষিত তথ্য প্রকাশ পেলে সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা ও প্রভাব সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।