জাতীয় ডেস্ক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে জনপ্রশাসনে দলীয়করণের প্রভাব পড়েছে, যার ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা ইসমাইল জবিউল্লাহ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলায় সফর করেন। সকালে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমকে জনগণমুখী ও জবাবদিহিমূলক করতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলে সেবা প্রদানের মান বাড়বে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা জোরদার হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নীতির আলোকে প্রশাসনকে আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে নিবিড় তদারকি ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, একটি উদার গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিতর্ক এবং পেশাগত নিরপেক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মত দেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও নীতি বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্মীপুর সফরকালে উপদেষ্টা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
জনপ্রশাসনে সংস্কার কার্যক্রম কত দ্রুত এবং কী পরিসরে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে নীতিগত সিদ্ধান্ত, আইনগত পরিবর্তন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।